কামব্যাকের কোন গল্প নই, মহাকাব্য লিখতে বসেছে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে কামব্যাক করে জয়ের হাসি হেসেছেন লিওনেল মেসিরা। ফাইনালের লড়াইয়েও শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই ও চার নম্বর দলটির মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটির দুই অর্ধের গল্প পুরোই ভিন্ন। এখানে প্রথমার্ধে ফুটবলের রূপটা ছিল কুৎসিত। সত্যিকার ফুটবল তখন হয় যৎসামান্য। দুই দলই মেতে ওঠে শারীরিক শক্তি নির্ভর লড়াইয়ে। হতে থাকে ফাউলের পর ফাউল; এই সময়ে ফাউল হয় ১৯টি।

দ্বিতীয় মিনিটেই লিয়ান্দ্রো পারেদেস ধাক্কা দেন জুড বেলিংহামকে। এরপর থেকে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। প্রথম কোয়ার্টারে কোনো দলই গোলের ভালো সুযোগ পায়নি।

১৯ মিনিটে প্রথম সেভ করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। মরগান রজার্সের একটি ক্রস বক্সে ঠিকভাবে ধরতে পারেননি তিনি। তবে বিপদ হতে দেননি। ৩৫ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। মেসিকে ফাউল করার জন্য তাকে কার্ড দেখান রেফারি। এর কিছুক্ষণ পরই হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজও। জেড স্পেন্সকে আটকাতে গিয়ে জার্সি টেনে ধরেন তিনি।

প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। তবে কার্ডের হিসাবে দুই দলই সমান ছিল। এই বিশ্বকাপে প্রথমবার প্রথমার্ধে গোল পায়নি আর্জেন্টিনা। এর আগে প্রতিটি ম্যাচেই প্রথমার্ধে গোল করেছিল তারা, শুধু মিশর ম্যাচ বাদে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইংল্যান্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড অ্যান্তোনিও গর্ডন দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের বাড়ানো দারুণ এক ক্রস ওয়ান টাচে জালে পাঠান তিনি।

পিছিয়ে পড়তেই আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ায়। ইংল্যান্ডের অর্ধে চাপ বাড়াতে শুরু করে। দীর্ঘদেহি ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের বিপক্ষে ক্রস খেলেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ইংলিশরা একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়লেও রক্ষণের দৃঢ় দেয়াল তুলে রেখেছিল। কিন্তু ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ বক্সের বাহির থেকে জায়গা পেয়ে জোরের ওপর শট নেন। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড লাফিয়েও বলের কাছে যেতে পারেননি। সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা।

এক মিনিট পরই আরেকটি হেড রুখে দেন তিনি। তবে ৮৬ মিনিটে আর ঠেকাতে পারেননি। ৭ মিনিটের পাগলামির শুরু সেখানেই। শর্ট কর্নার থেকে বল পেয়ে সমতা ফেরান এনজো ফের্নান্দেস। এর আগে তিনি অন্তত তিনবার চেষ্টা করেছিলেন গোলের জন্য।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে যোগ করা সময়ে। রেফারি ৯ মিনিট বাড়তি সময় দিয়েছিলেন। সেই সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ এক ক্রসে হেড করেন লাউতারো মার্তিনেজ। বল জড়িয়ে যায় ইংল্যান্ডের জালে। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর আর কোনো গোল হয়নি। বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার ফাইনালে যাওয়া।